বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ১

ঝপঝপিয়া নদীতে নারীর মাথাবিহীন মরদেহ: প্রেমিক গ্রেফতার, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

|| শেখ শাহরিয়ার | জেলা প্রতিনিধি (খুলনা) ||

খুলনার বটিয়াঘাটায় ঝপঝপিয়া নদী থেকে উদ্ধার হওয়া মাথাবিহীন এক নারীর মরদেহের ঘটনায় দীর্ঘদিনের চাঞ্চল্যের অবসান ঘটিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), খুলনা। প্রায় ৪০ দিনের নিবিড় তদন্ত ও একাধিক জেলার সমন্বিত অভিযানের পর এ ঘটনার মূল অভিযুক্ত ও নিহত নারীর কথিত প্রেমিক মোঃ লালন গাজীকে গ্রেফতার করেছে পিবিআই। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।

পিবিআই সূত্রে জানা যায়, খুলনা জেলার ডুমুরিয়া থানাধীন সাজিয়াড়া গ্রামের বাসিন্দা শামিম ফকির (৩০) তার মা সালেহা বেগম নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় একই গ্রামের লালন গাজীর বিরুদ্ধে আদালতে অপহরণ মামলা দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশে মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করেন পিবিআই খুলনার এসআই (নিঃ) রেজোয়ান।

তদন্তকালে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জানা যায়, সালেহা বেগম দীর্ঘদিন ধরে পিরোজপুর জেলার ইন্দুরকানী থানাধীন এলাকায় বসবাস করছিলেন। তবে গত ১৯ আগস্ট ২০২৫ সন্ধ্যার পর থেকে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরবর্তীতে অনুসন্ধানে উঠে আসে, ভিকটিম সালেহা বেগম ও অভিযুক্ত লালন গাজী ইন্দুরকানীর চাড়াখালী গ্রামে একটি ভাড়া বাসায় স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বসবাস করতেন।

পিবিআই আরও জানায়, ১৯ আগস্ট সন্ধ্যায় তারা দু’জন খুলনার বটিয়াঘাটা থানাধীন গজালিয়া গ্রামে যাওয়ার কথা বলে একসঙ্গে বাসা থেকে বের হন। এর পরদিন ২০ আগস্ট বিকেলে বটিয়াঘাটা থানার সুরখালী ইউনিয়নের সুখদাড়া এলাকায় ঝপঝপিয়া নদী থেকে মাথাবিহীন এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় মরদেহের সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত শেষে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয় এবং বটিয়াঘাটা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।

পরবর্তীতে পিবিআই খুলনার ক্রাইমসিন টিমের সংগৃহীত স্থিরচিত্র ও আলামত অপহরণ মামলার বাদী ও তার পরিবারের সদস্যদের দেখানো হলে তারা পরিধেয় বস্ত্র ও শারীরিক গঠনের ভিত্তিতে মরদেহটি সালেহা বেগমের বলে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করেন। পরে হত্যা মামলাটি পিবিআইয়ের সিডিউলভুক্ত হলে সংস্থাটি স্বপ্রণোদিত হয়ে তদন্তের দায়িত্ব নেয়।

মরদেহ উদ্ধারের পর থেকেই অভিযুক্ত লালন গাজী আত্মগোপনে চলে যায়। পিবিআই প্রধান মোঃ মোস্তফা কামাল, এডিশনাল আইজিপি’র তত্ত্বাবধান এবং খুলনা জেলা ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার রেশমা শারমিন, পিপিএম-সেবা’র নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল সাতক্ষীরা, পিরোজপুর, নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলায় অভিযান পরিচালনা করে। অবশেষে গত ১৮ ডিসেম্বর রাতে সুনামগঞ্জ সদর থানাধীন হালুয়ারঘাট বাজার সংলগ্ন খেয়াঘাট এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত স্বীকার করে, ভিকটিমের ব্যাংক হিসাব থেকে প্রায় ১৪ লাখ টাকা উত্তোলন করা এবং বিয়ের জন্য চাপ দেওয়াকে কেন্দ্র করেই সে হত্যার পরিকল্পনা করে। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, ১৯ আগস্ট বিকেলে বটিয়াঘাটার পার বটিয়াঘাটা খেয়াঘাট এলাকায় সহযোগীদের সহায়তায় সালেহা বেগমকে হত্যা করে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং মরদেহ ঝপঝপিয়া নদীতে ফেলে দেওয়া হয়।

পুলিশ হেফাজতে দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বটিয়াঘাটা থানাধীন গজালিয়া গ্রামে অভিযুক্তের আত্মীয়ের বাড়ির বিভিন্ন স্থান থেকে ভিকটিমের ব্যবহৃত মালামাল ও পরিধেয় বস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেফতার আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্য অজ্ঞাতনামা আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পিবিআই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *