
|| বদরুদ্দোজা বুলু | চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি ||
কুড়িগ্রামের চিলমারীতে দীর্ঘ ৮ বছর ধরে বন্ধ থাকা ভাসমান তেল ডিপো দুটি পুনরায় চালু ও স্থায়ীকরণের দাবিতে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালিত হয়েছে। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) চিলমারী উপজেলা পরিষদ গেট সংলগ্ন এলাকায় রংপুর বিভাগ ট্যাংকলরি শ্রমিক ইউনিয়ন (প্রধান কার্যালয়: চিলমারী নদী বন্দর ঘাট) এই কর্মসূচির আয়োজন করে।

জানা যায়, চিলমারী উপজেলায় ব্রহ্মপুত্র নদে অবস্থিত যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড এবং মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড-এর ভাসমান ডিপো দুটি ২০১৮ সাল থেকে তেলশূন্য অবস্থায় পড়ে আছে। ১৯৮৯ সালে স্থাপিত এই ডিপো দুটির মাধ্যমে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও লালমনিরহাট জেলায় জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হতো। ২২ জন অনুমোদিত ডিলার এখান থেকে তেল সংগ্রহ করে খুচরা বিক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দিতেন। ২০১৮ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে ডিপো দুটির তেল শেষ হওয়ার পর থেকে দীর্ঘ ৮ বছর ধরে নানান অজুহাতে সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। এর ফলে স্থানীয় কৃষি খাতে বিশেষ করে চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে সেচ প্রকল্প মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ডিপো সংশ্লিষ্টদের মতে, ব্রহ্মপুত্র নদের নাব্যতা হ্রাসের কারণে তেলবাহী জাহাজ আসতে না পারায় সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। তবে উত্তরবঙ্গ ট্যাংকলরি শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা রিয়াজুল হক জানান, ডিপোটি স্থায়ীকরণের ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও জেলা প্রশাসক মহোদয় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) মহাব্যবস্থাপক বরাবর চিঠি দিলেও অজ্ঞাত কারণে তা এখনো কার্যকর হয়নি।
গণস্বাক্ষর কর্মসূচি চলাকালীন শ্রমিক নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অতি দ্রুত ডিপো দুটি চালু করা না হলে আগামীতে ঘেরাও কর্মসূচি পালন করা হবে। অনুষ্ঠানে সংহতি প্রকাশ করে স্বাক্ষর প্রদান করেন প্রেসক্লাব চিলমারীর সভাপতি হুমায়ুন কবির, সাংবাদিক ও বিএনপি নেতা বদরুদ্দোজা বুলু, জাতীয়তাবাদী সাংবাদিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক আবু ওবায়দুল হক খাজা, সাংবাদিক তাইবুর রহমান এবং উত্তরবঙ্গ ট্যাংকলরি শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা রিয়াজুল হকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের শ্রমিক ও সাধারণ জনতা।
