বুধবার, ফেব্রুয়ারি ১১

চান্দগাঁওয়ে নাশকতার গোপন বৈঠক: চাঁদাবাজ জাহেদ আটক, পলাতক রাজু

|| বেলাল উদ্দিন | নিজস্ব প্রতিনিধি (চট্টগ্রাম) ||

চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁও থানা এলাকায় নির্বাচনকে সামনে রেখে নাশকতার প্রস্তুতিকালে যুবলীগ ক্যাডার ও কুখ্যাত চাঁদাবাজ জাহেদকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল সন্ধ্যায় বহদ্দারহাট এলাকায় পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে তাকে আটক করা হয়। তবে অভিযানের সময় একই চক্রের আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী রাজু ও কয়েকজন সহযোগী পালিয়ে যাওয়ায় অভিযান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চান্দগাঁও থানা যুবলীগ নেতা মোহাম্মদ সোহেল ওরফে ‘চাঁদাবাজ ফ্রুট সোহেল’-এর অনুসারীরা আসন্ন ১২ তারিখের নির্বাচনকে সামনে রেখে এলাকায় অস্থিতিশীলতা তৈরির লক্ষ্যে নাশকতার ছক কষছিল। বহদ্দারহাট পুকুরপাড় এলাকায় ফ্রুট জসিমের ফলের আড়ৎকে তারা গোপন বৈঠকের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করছিল বলে তথ্য পাওয়া যায়।

গোপন সূত্রে এমন তথ্য পাওয়ার পর চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নুর হোসাইন মামুনের নেতৃত্বে একটি দল সেখানে অভিযান চালায়। অভিযানে এসআই মিজানের নেতৃত্বাধীন পুলিশের একটি টিম অংশ নেয়। অভিযানের একপর্যায়ে চাঁদাবাজ জাহেদকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হলেও একই সময় সন্ত্রাসী রাজু ও আরও কয়েকজন সন্ত্রাসী পালিয়ে যায়।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বহদ্দারহাট এলাকার ফুটপাত, ভাসমান দোকান, ফলের আড়ৎ ও ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নিয়মিত চাঁদাবাজি করতো এই চক্র। চাঁদাবাজ ফ্রুট সোহেলের নেতৃত্বে জাহেদ, রাজুসহ তার সহযোগীরা মাসিক, সাপ্তাহিক ও দৈনিক হারে চাঁদা আদায় করত।

চাঁদা না দিলে দোকান ভাঙচুর, মারধর, ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়া এমনকি মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকিও দেওয়া হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় অনেক ব্যবসায়ী ভয়ে মুখ না খুললেও সরকারের পরিবর্তনের পর কিছুটা স্বস্তি ফিরেছিল এলাকায়।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এই সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ চক্রের বেশিরভাগ সদস্য এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যায়। দীর্ঘদিন তারা নিষ্ক্রিয় থাকলেও নির্বাচনকে সামনে রেখে ফের সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা শুরু করে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তারা আবারও সন্ত্রাসী ও নাশকতার পথ বেছে নিতে পারে।

এলাকাবাসীর দাবি, শুধু একজনকে গ্রেপ্তার করলেই এই চক্র ভেঙে পড়বে না। বরং পলাতক রাজুসহ পুরো নেটওয়ার্ককে আইনের আওতায় না আনলে নির্বাচনকালে বড় ধরনের সহিংসতার আশঙ্কা থেকেই যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *