শুক্রবার, মার্চ ২৭

খুলনায় স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে নৌঅঞ্চলে বর্ণাঢ্য আয়োজন, যুদ্ধজাহাজে দর্শনার্থীর ঢল

|| এস এম শাহরিয়ার | জেলা প্রতিনিধি (খুলনা) ||

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে খুলনা নৌঅঞ্চলজুড়ে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে ঐতিহাসিক ২৬ মার্চ। দিবসটি ঘিরে নৌঅঞ্চলের বিভিন্ন স্থাপনায় ছিল আনুষ্ঠানিকতা, প্রার্থনা, সাংস্কৃতিক আয়োজন এবং জনসাধারণের অংশগ্রহণে প্রাণবন্ত পরিবেশ।

সকাল থেকেই নৌঅঞ্চলের মসজিদগুলোতে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি এবং সশস্ত্র বাহিনীর অগ্রগতি কামনা করে মোনাজাত করা হয়।

দিবসটি উপলক্ষে খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন নৌঅঞ্চলের জাহাজ ও স্থাপনাগুলোতে নানা কর্মসূচি পালিত হয়। নৌবাহিনী পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে আলোচনা সভা, রচনা ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতা এবং বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের অংশগ্রহণে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতাও আয়োজন করা হয়।

এদিকে জাতীয় পর্যায়ের কর্মসূচির অংশ হিসেবে নৌবাহিনীর আধুনিক যুদ্ধসামগ্রী, মেকানাইজড কলাম এবং বিভিন্ন ইউনিটের সক্ষমতা প্রদর্শন করা হয়। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে নৌবাহিনীর প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও সক্ষমতার একটি চিত্র ফুটে ওঠে।

দিবসটি উপলক্ষে খুলনার বিআইডব্লিউটিএ রকেট ঘাট এলাকায় সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয় নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ ‘বানৌজা শহীদ আখতার উদ্দিন’। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জাহাজটিতে ছিল মানুষের উপচে পড়া ভিড়। নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা জাহাজটি ঘুরে দেখেন এবং নৌবাহিনীর বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে ধারণা নেন।

জাহাজের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, আধুনিক প্রযুক্তির সংযোজনে নৌবাহিনী এখন আরও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। ২০২৩ সালে সংযোজিত এই যুদ্ধজাহাজটি ইতোমধ্যে দেশের সমুদ্রসীমায় টহল, সার্বভৌমত্ব রক্ষা, জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখা এবং অবৈধ মৎস্য আহরণ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

দর্শনার্থীদের মধ্যে পারভীন আক্তার ও শিক্ষার্থী মিফজাল জানান, যুদ্ধজাহাজ কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতা তাদের জন্য নতুন ও শিক্ষণীয়। নৌবাহিনীর কার্যক্রম ও সমুদ্র নিরাপত্তা সম্পর্কে তারা বাস্তব ধারণা পেয়েছেন।

সব মিলিয়ে দিবসটি ঘিরে খুলনা নৌঅঞ্চলে দিনব্যাপী আয়োজন সাধারণ মানুষের মধ্যে উৎসবের আমেজ তৈরি করে এবং রাষ্ট্রীয় এই গুরুত্বপূর্ণ দিবসকে করে তোলে আরও তাৎপর্যমণ্ডিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *