
|| এস এম শাহরিয়ার | জেলা প্রতিনিধি (খুলনা) ||
খুলনা নগরীতে সিএনজি অটোরিকশার ভাড়া নিয়ে চরম অরাজকতা সৃষ্টি হয়েছে। গ্যাসের দাম সামান্য বৃদ্ধিকে অজুহাত করে কোনো ধরনের নিয়ম-নীতি বা সরকারি নির্দেশনা ছাড়াই যাত্রীপ্রতি ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া বাড়িয়ে আদায় করা হচ্ছে। এতে করে প্রতিদিন ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
সচেতন নাগরিকদের অভিযোগ, ভাড়া বৃদ্ধির এ সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ অযৌক্তিক এবং একতরফা। হিসাব অনুযায়ী, ১ লিটার গ্যাসের দাম বেড়েছে প্রায় ১৮ টাকা, অথচ একই গ্যাসে একটি সিএনজি প্রায় ৩০ কিলোমিটার চলতে সক্ষম। অর্থাৎ, ডাকবাংলা থেকে দৌলতপুর রুটে এক লিটার গ্যাসে অন্তত তিনবার যাতায়াত সম্ভব।
আগে যেখানে ২০ টাকা ভাড়ায় ৫ জন যাত্রী নিয়ে ৩ ট্রিপে আয় হতো ৩০০ টাকা, বর্তমানে ২৫ টাকা ভাড়ায় সেই আয় দাঁড়িয়েছে ৩৭৫ টাকা। অর্থাৎ, বাড়তি ১৮ টাকা খরচ করে চালকরা অতিরিক্ত ৫৭ টাকা লাভ করছেন। অনেক ক্ষেত্রে আবার ১০ টাকা পর্যন্ত বেশি আদায় করা হচ্ছে, যা যাত্রীদের জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও শিক্ষার্থীরা। যাদের নির্দিষ্ট আয় নেই, তাদের প্রতিদিনের যাতায়াতে অতিরিক্ত ৫-১০ টাকা ব্যয় মাস শেষে বড় আর্থিক চাপ তৈরি করছে। দীর্ঘ দূরত্বে সামান্য ভাড়া বৃদ্ধি যুক্তিসঙ্গত হলেও, লোকাল প্রতিটি পয়েন্টে ভাড়া বাড়ানোকে অন্যায় ও অগ্রহণযোগ্য বলে মনে করছেন যাত্রীরা।
অভিযোগ রয়েছে, নগরীতে একটি শক্তিশালী পরিবহন সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। তারা একদিকে ইচ্ছেমতো ভাড়া বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে বিকল্প গণপরিবহন চালুর উদ্যোগকেও বাধাগ্রস্ত করছে। এর আগে ‘টাউন সার্ভিস’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হলেও সিন্ডিকেটের কারণে তা আলোর মুখ দেখেনি।
এ অবস্থায় নগরবাসী দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি—
প্রতিটি রুটে যৌক্তিক ভাড়ার তালিকা নির্ধারণ করে সিএনজিতে দৃশ্যমান স্থানে টানাতে হবে অযৌক্তিক ভাড়া বৃদ্ধি প্রত্যাহার করে ন্যায্য ভাড়া নির্ধারণ করতে হবে পরিবহন সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বন্ধ করে বিকল্প গণপরিবহন চালু নিশ্চিত করতে হবে
নগরবাসীর মতে, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে মানুষ সিএনজি বর্জন করে ইজিবাইকসহ অন্যান্য বিকল্পে ঝুঁকবে, যা নগর পরিবহন ব্যবস্থায় নতুন করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে।
