
|| শেখ শাহরিয়ার | জেলা প্রতিনিধি (খুলনা) ||
খুলনার ঐতিহাসিক সার্কিট হাউস ময়দানে আগামীকাল মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমানের নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হবে। দুপুর ২টায় শুরু হতে যাওয়া এই জনসভাকে কেন্দ্র করে খুলনা মহানগরী ও জেলার সর্বত্রই বিরাজ করছে সাজ সাজ রব।
জনসভা সফল করতে মহানগরী ও জেলা জামায়াতে ইসলামী ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। অর্ধশতাধিক মাইকের মাধ্যমে প্রচার-প্রচারনা চালানো হয়েছে। ইতোমধ্যে দুই লক্ষাধিক লিফলেট ও হ্যান্ডবিল বিতরণ করা হয়েছে। আমীরে জামায়াতকে স্বাগত জানিয়ে থানা, উপজেলা, ওয়ার্ড ও গ্রামে গ্রামে আয়োজন করা হয়েছে প্রচার মিছিল। নগরীর বিভিন্ন সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে টাঙানো হয়েছে ব্যানার ও ফেস্টুন।
প্রায় দুই দশক পর খুলনায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই বৃহৎ নির্বাচনী জনসভাকে ঘিরে দলের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এই জনসভা থেকে আমীরে জামায়াত খুলনাবাসীর বিভিন্ন দাবি, সমস্যা ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরবেন।
আমীরে জামায়াতের সফরসূচি অনুযায়ী, ডা. শফিকুর রহমান আগামীকাল সকালে ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারযোগে যশোর পৌঁছাবেন। সকাল সাড়ে ৯টায় যশোর ঈদগাহ ময়দানে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্য দেবেন। এরপর কলারোয়া ও ডুমুরিয়ায় পথসভায় অংশ নিয়ে দুপুর সাড়ে ১২টায় সাতক্ষীরা সরকারি বালক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত জনসভায় ভাষণ দেবেন। সেখান থেকে দুপুর ২টায় তিনি খুলনায় পৌঁছাবেন। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সার্কিট হাউস ময়দানে মহানগরী ও জেলা জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। পরবর্তীতে তিনি বাগেরহাটের জনসভায় অংশ নেবেন।
আগামীকালের জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জামায়াত মনোনীত ও ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য সমর্থিত বিভিন্ন আসনের প্রার্থীসহ কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক নেতৃবৃন্দ। সভায় সভাপতিত্ব করবেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য, খুলনা মহানগরী আমীর ও জনসভা প্রস্তুতি কমিটির আহবায়ক অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান।
প্রস্তুতি কমিটির আহবায়ক অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান জানান, জনসভা বাস্তবায়নে মঞ্চ, শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা, প্রচার, পরিবহন, স্বাস্থ্য, পানি, আপ্যায়ন ও মিডিয়াসহ মোট ১৮টি উপ-কমিটি কাজ করছে। সার্কিট হাউস ময়দানে ৪০ ফুট বাই ৩০ ফুট আকারের মূল মঞ্চ নির্মাণ করা হয়েছে। মিডিয়ার জন্য আলাদা মঞ্চের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। নারীদের জন্য পর্দাসহ বসার ব্যবস্থা, খাবার পানি ও ভ্রাম্যমাণ টয়লেটের ব্যবস্থা থাকছে।
নিরাপত্তা নিশ্চিতে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সহস্রাধিক স্বেচ্ছাসেবক মাঠে দায়িত্ব পালন করবেন। জেলা প্রশাসন ও কেএমপির কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সব অনুমতি নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, সার্কিট হাউস ময়দানের পাশাপাশি আশপাশের সড়কে দেড় শতাধিক মাইক স্থাপন করা হয়েছে, যাতে মাঠে প্রবেশ করতে না পারলেও নগরবাসী জনসভার বক্তব্য শুনতে পারেন। আশা করা হচ্ছে, আগামীকালের এই জনসভায় দুই লক্ষাধিক মানুষের উপস্থিতি হবে এবং এটি খুলনার স্মরণকালের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক জনসভায় রূপ নেবে।
