
|| এস এম শাহরিয়ার | জেলা প্রতিনিধি (খুলনা) ||
ডেঙ্গু ও চিকনগুনিয়ার সংক্রমণ ঠেকাতে দেশব্যাপী পালিত “প্রতি শনিবার পরিচ্ছন্নতা দিবস” কর্মসূচির অংশ হিসেবে খুলনা নগরীতে চলছে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান। শনিবার (৪ এপ্রিল) নগরীর খালিশপুর এলাকায় মশক নিধন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে সরব উপস্থিতি ছিল সিটি কর্পোরেশনের।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর নির্দেশনায় গৃহীত এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু এদিন সকাল সাড়ে ১০টায় ১২ নম্বর ওয়ার্ডের প্রভাতী মাধ্যমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় উপস্থিত থেকে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেন। কেসিসির কনজারভেন্সি বিভাগ এ অভিযান বাস্তবায়ন করছে।
অভিযানস্থলে স্থানীয় বাসিন্দা ও সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রশাসক বলেন, “পরিচ্ছন্ন নগরই নিরাপদ নগর। নাগরিকদের ভোগান্তি কমাতে এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি হ্রাস করতে আমরা মাঠে নেমেছি।” তিনি জানান, নগরীর খালগুলো পরিষ্কারের জন্য দুই মাসের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্ষার আগেই ড্রেনেজ ব্যবস্থা সচল করে জলাবদ্ধতা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, “শুধু সিটি কর্পোরেশন একা নয়, নগরবাসীকেও এগিয়ে আসতে হবে। যেখানে-সেখানে বর্জ্য ফেলা বন্ধ করে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলতে হবে।” নাগরিকদের সহযোগিতাকেই এ উদ্যোগের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
ডেঙ্গু ও চিকনগুনিয়ার ঝুঁকি মোকাবিলায় ইতোমধ্যে নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে জোরদার করা হয়েছে পরিচ্ছন্নতা অভিযান। বিশেষ করে ড্রেন, নালা, আবর্জনার স্তূপ এবং মশার প্রজননস্থল হিসেবে পরিচিত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে চলছে নিবিড় পরিষ্কার কার্যক্রম। পাশাপাশি বাসাবাড়ির আঙিনা পরিষ্কার রাখা, ফুলের টব, ড্রাম, অব্যবহৃত পাত্র বা টায়ারে পানি জমতে না দেওয়া—এসব বিষয়ে নগরবাসীকে সচেতন করা হচ্ছে।
অভিযানে কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ, প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ মো. মাসুদ করিমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পরে প্রশাসক খালিশপুরের পোর্ট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিপরীত গলি, এস লাইনের মসজিদ এলাকা, গোয়ালখালী হয়ে বাস্তুহারা পর্যন্ত ড্রেন, বয়রা হাউজিং এস্টেটের ১ নম্বর সড়ক এবং ক্ষুদে খালের চলমান উন্নয়নকাজ পরিদর্শন করেন।
