
|| আসাদুল ইসলাম | নিজস্ব প্রতিবেদক (বেলকুচি, সিরাজগঞ্জ) ||
পবিত্র রমজান মাসের শুরুতেই সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে জমে উঠেছে ইফতারি কেনাবেচা। প্রতিদিন দুপুর গড়াতেই মুখরিত হয়ে উঠছে ইফতারির অস্থায়ী দোকানগুলো। উপজেলার মুকুন্দগাঁতী বাজার, চালা ও বেলকুচি বাসস্ট্যান্ড এলাকাসহ গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ। ক্রেতা-বিক্রেতাদের হাঁকডাকে সরগরম হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।

সরেজমিনে বাজার ঘুরে দেখা যায়, বুন্দিয়া, জিলাপি, নিম্কি, পিঁয়াজু, বেগুনি, চপ, আলুর দম এবং ছোলার পাশাপাশি রকমারি ইফতার সামগ্রীর পসরা সাজিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা। বিশেষ করে বেলকুচির ঐতিহ্যবাহী শাহী জিলাপি এবং মাঠার দোকানে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। মৌসুমি বিক্রেতাদের পাশাপাশি স্থায়ী হোটেল-রেস্তোরাঁগুলোতেও ইফতারি তৈরির ধুম পড়েছে।
বিক্রেতা মো. মোসলেম উদ্দিন বলেন, “প্রতিবারের মতো এবারও আমরা মানসম্মত ইফতারি তৈরির চেষ্টা করছি। তবে গত বছরের তুলনায় ভোজ্যতেল, ডাল ও বেসনের দাম কিছুটা বেশি হওয়ায় আমাদের খরচ বেড়ে গেছে। তারপরও সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে দাম রাখার চেষ্টা করছি। প্রতিদিন আছরের নামাজের পর থেকেই ক্রেতাদের আনাগোনা বাড়তে থাকে।”
ইফতারি কিনতে আসা স্কুল শিক্ষক আল আমিন বলেন, “পরিবারের জন্য ইফতারি নিতে এসেছি। বাজারে বৈচিত্র্য অনেক, তবে দাম গতবারের চেয়ে একটু চড়া মনে হচ্ছে। তারপরও রমজানের আমেজ আর ঐতিহ্যের কারণে দোকান থেকে কিছু না কিছু কেনা হয়।”
আরেক ক্রেতা গৃহিণী সুমি আক্তার জানান, ইফতারির মানে সচেতন থাকা জরুরি। খোলা দোকানের চেয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন দোকানেই তিনি প্রাধান্য দিচ্ছেন।
এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ইফতারিতে ক্ষতিকর রং বা রাসায়নিকের ব্যবহার রোধে এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। সব মিলিয়ে দ্রব্যমূল্যের কিছুটা ঊর্ধ্বগতি থাকলেও বেলকুচির ইফতার বাজারে রমজানের চিরাচরিত উৎসবের আমেজ বিন্দুমাত্র কমেনি।
