
|| নিজস্ব প্রতিবেদক | আলোকিত দৈনিক ||
ইসলামী ঐক্য আন্দোলনের কেন্দ্রীয় দপ্তরে নিয়মিত সাংগঠনিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে সাপ্তাহিক দারসুল কুরআন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর পুরানা পল্টনস্থ সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় মিলনায়তনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে পবিত্র কুরআনের সূরা যুখরুফের ২৬ থেকে ৩৫ নম্বর আয়াতের আলোকে জীবনঘনিষ্ঠ ও হৃদয়স্পর্শী দারস পেশ করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক মাওলানা মুহাম্মদ মুহিব্বুল্লাহ ভূঁঞা।
এসময় উপস্থিত ছিলেন ইসলামী ঐক্য আন্দোলনের সেক্রেটারি জেনারেল মোস্তফা তারেকুল হাসান, অর্থ সম্পাদক মাওলানা ফারুক আহমাদ এবং ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির মোস্তফা বশিরুল হাসান, সেক্রেটারি মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক, অর্থ সম্পাদক হাফেজ মাওলানা শহিদুল ইসলামসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগরী নেতৃবৃন্দ।
দারস পেশকালে মাওলানা মুহাম্মদ মুহিব্বুল্লাহ ভূঁঞা সূরা যুখরুফের ২৬-২৮ নম্বর আয়াতের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর সেই অকুতোভয় ঘোষণা আজো আমাদের জন্য আলোকবর্তিকা। তিনি তাঁর সমাজ ও পরিবারের শিরকপূর্ণ আদর্শকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে বলেছিলেন, ‘আমি সেই সত্তার ইবাদত করি যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন।’ মাওলানা মুহিব্বুল্লাহ জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান যুগেও রাজনৈতিক বা সামাজিক চাপে পড়ে সত্যের সাথে আপস করা যাবে না; বরং ইব্রাহিমী আদর্শে বলীয়ান হয়ে একনিষ্ঠ তৌহিদের ওপর অবিচল থাকতে হবে।
আয়াতের গূঢ় তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে তিনি আরও বলেন, ৩১ নম্বর আয়াতে কাফেরদের সেই চিরাচরিত অহমিকা ফুটে উঠেছে, যেখানে তারা প্রশ্ন তুলেছিল— ‘এই কুরআন কেন মক্কা বা তায়েফের কোনো প্রভাবশালী ও বিত্তবান ব্যক্তির ওপর নাজিল হলো না?’ অর্থাৎ তারা নবুওয়াতের মতো মহান ঐশী নেয়ামতকে জাগতিক ক্ষমতা ও আভিজাত্যের মাপকাঠিতে বিচার করতে চেয়েছিল।
এই সংকীর্ণ যুক্তির জবাবে ৩২ নম্বর আয়াতের অমোঘ সত্যটি তুলে ধরে মাওলানা মুহিব্বুল্লাহ বলেন, আল্লাহ তায়ালা সরাসরি প্রশ্ন করেছেন— ‘তারা কি তোমার রবের রহমত বণ্টন করে?’ বক্তা বলেন, এই আয়াতটি আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় যে, রিযিক, সম্মান কিংবা নবুওয়াতের মতো আধ্যাত্মিক সম্পদ বণ্টনের মালিক একমাত্র আল্লাহ। তিনি স্পষ্ট করেন যে, দুনিয়ার জীবনে কে কার চেয়ে বিত্তবান হবে কিংবা কে কাকে দিয়ে সেবা করিয়ে নেবে—এই শ্রেণিবিন্যাস আল্লাহ নিজেই করেছেন যাতে সমাজ ও বৈশ্বিক শৃঙ্খলা বজায় থাকে।
মাওলানা মুহিব্বুল্লাহ ভূঁঞা বলেন, ৩১ ও ৩২ নম্বর আয়াতের শিক্ষা হলো—মানুষের বাহ্যিক ধন-সম্পদ আল্লাহর কাছে শ্রেষ্ঠত্বের কোনো মানদণ্ড নয়। বরং আল-কুরআনে বর্ণিত আল্লাহর রহমত মানুষের জমানো সকল ধন-সম্পদ অপেক্ষা শতগুণ শ্রেষ্ঠ।
মাওলানা মুহিব্বুল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহ তায়ালা আমাদের স্পষ্ট বুঝিয়েছেন যে দুনিয়ার ধন-সম্পদ ও চাকচিক্য আল্লাহর কাছে এতটাই তুচ্ছ যে, মানুষ যদি কুফরির দিকে ঝুঁকে পড়ার ভয় না থাকতো, তবে তিনি কাফেরদের ঘরবাড়ি, ছাদ, সিঁড়ি—সব সোনা ও রুপা দিয়ে বানিয়ে দিতেন।’
তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, আজ আমরা পার্থিব প্রাচুর্য দেখে সত্যের বিচার করি, অথচ আল্লাহ বলছেন এই দুনিয়া কেবলই ক্ষণস্থায়ী ভোগের উপকরণ। তিনি সূরা যুখরুফের আয়াতের রেশ ধরে বলেন, মানুষের শ্রেষ্ঠত্বের মাপকাঠি ক্ষমতা বা অর্থ নয়, বরং ‘তাকওয়া’ বা খোদাভীতি।
বক্তা উপস্থিত সবাইকে সতর্ক করে বলেন, দুনিয়ার সোনা-রুপার চাকচিক্য যেন আমাদের পরকালের শাশ্বত সফলতা থেকে বিচ্যুত না করে। পরিশেষে, অন্ধ অনুকরণ ত্যাগ করে যুক্তিনির্ভর ঈমান গ্রহণ এবং কুরআনের আলোকে ব্যক্তিগত ও রাষ্ট্রীয় জীবন গঠনের আহ্বান জানিয়ে দারস শেষ হয়।
