
|| আন্তর্জাতিক ডেস্ক ||
ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার পাল্টাপাল্টি হামলা এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও থামার কোনো লক্ষণ নেই। বরং এই সংঘাত দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের রূপ নিচ্ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের জীবনে। গতকাল শুক্রবার মধ্যরাত থেকে দফায় দফায় ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জেরে ইসরায়েলের বড় শহরগুলোতে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। খবর: আল জাজিরার।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর তথ্যমতে, শুক্রবার রাত থেকে এখন পর্যন্ত ইরান অন্তত পাঁচটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এই হামলার হাত থেকে বাঁচতে তেল আবিব, জেরুজালেম এবং হাইফার মতো প্রধান শহরগুলোর লাখ লাখ বাসিন্দা মাটির নিচের বাঙ্কার, পার্কিং লট এবং পাতাল রেলস্টেশনে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। অনেককেই নির্ঘুম রাত কাটাতে হচ্ছে এসব ভূগর্ভস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে।
বিশ্লেষকদের মতে, এটি ইরানের একটি পরিকল্পিত মনস্তাত্ত্বিক কৌশল। নির্দিষ্ট সময় পরপর ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে ইসরায়েলি নাগরিকদের দীর্ঘ সময় বাঙ্কারে আটকে রাখা এবং দেশটির সরকারের ওপর অভ্যন্তরীণ চাপ সৃষ্টি করাই তেহরানের মূল লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, যুদ্ধের প্রথম সপ্তাহে ইরান অন্তত ১০০০ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়বে বলে তারা ধারণা করেছিল। তবে এখন পর্যন্ত প্রায় ২০০টি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। ইসরায়েলের দাবি, তাদের সফল প্রতিরক্ষা ও পাল্টা হামলার কারণেই ইরান লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে পারছে না। যদিও সাধারণ মানুষের মধ্যে বিরাজমান আতঙ্ক ভিন্ন চিত্রই ফুটিয়ে তুলছে।
মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনা এখন এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে মোড় নিয়েছে, যেখানে সামরিক শক্তির লড়াইয়ে পিষ্ট হচ্ছে সাধারণ জনজীবন।
