মঙ্গলবার, মার্চ ১০

ইবাদতের বসন্ত ও আত্মশুদ্ধির অনন্য সোপান এতেকাফ

রমজানের রহমত ও মাগফিরাতের দিনগুলো পেরিয়ে আজ ২০ রমজান শেষ হচ্ছে। আজ সূর্যাস্তের পর থেকেই শুরু হচ্ছে পবিত্র রমজানের শেষ দশকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত ‘এতেকাফ’। মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভ, পাপমোচন এবং মহিমান্বিত রাত ‘লাইলাতুল কদর’ প্রাপ্তির আশায় মুমিন মুসলমানরা আজ ইফতারের আগমুহূর্তে মসজিদে প্রবেশ করবেন। জাগতিক সকল কোলাহল ও ব্যস্ততা ত্যাগ করে মহান রবের দরবারে নিজেকে সঁপে দেওয়ার এক অনন্য সুযোগ এই এতেকাফ।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা ইব্রাহিম (আ.) ও ইসমাইল (আ.)-কে নির্দেশ দিয়েছিলেন তাঁর ঘরকে তওয়াফকারী ও এতেকাফকারীদের জন্য পবিত্র রাখতে। এতেকাফের গুরুত্ব সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ অত্যন্ত সুস্পষ্ট। উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) ওফাত পর্যন্ত রমজানের শেষ দশকে নিয়মিত এতেকাফ করেছেন। এটি মূলত সুন্নতে মুয়াক্কাদায়ে কেফায়া, যা মহল্লার কোনো একজন ব্যক্তি আদায় করলে পুরো মহল্লাবাসী দায়মুক্ত হন, তবে এটি ত্যাগ করা অত্যন্ত অনুচিত।

এতেকাফের প্রধান তাৎপর্য হলো শবে কদরের তালাশ করা। রমজানের শেষ দশকের বিজোড় রাতগুলোতে লুকিয়ে থাকা এই হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ রাতকে পাওয়ার জন্য নিরবচ্ছিন্ন ইবাদতের কোনো বিকল্প নেই। একজন এতেকাফকারী নিজেকে দুনিয়াবী সব কাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করে আল্লাহর ঘরে অবস্থান করেন, যা তাঁকে গভীর মনোযোগের সাথে জিকির, তিলাওয়াত ও নফল ইবাদতে নিমগ্ন হতে সাহায্য করে। এটি মূলত গুনাহ থেকে মুক্তির জন্য এক প্রকার আত্ম-নিবেদন।

এই পবিত্র সময়ে মুমিনদের করণীয় হলো অপ্রয়োজনীয় কথা ও কাজ বর্জন করে অধিক হারে তাওবা-ইস্তেগফার করা। ইবাদত কেবল নামাজ বা তিলাওয়াতে সীমাবদ্ধ না রেখে ইলম চর্চা, তাসবিহ পাঠ এবং উম্মাহর কল্যাণে দোয়া করাও এতেকাফকারীর বিশেষ দায়িত্ব। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও সওয়াবের আশায় এতেকাফ করবে, তার পূর্বের সব গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে। তাই আত্মিক উন্নয়ন ও আল্লাহর ভালোবাসা অর্জনের এই সুবর্ণ সুযোগ কাজে লাগিয়ে সুন্দর সমাজ গঠনে শপথ নেওয়াই হোক এবারের এতেকাফের শিক্ষা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *