
|| শেখ শাহরিয়ার | জেলা প্রতিনিধি (খুলনা) ||
খুলনায় ক্রমাগত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদ এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপের দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) দুপুর ১২টায় নগরীর পিকচার প্যালেস মোড়ে ‘নিরাপদ খুলনা চাই’ ব্যানারে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
সংগঠনের সভাপতি সরদার বাদশার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মসূচি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের উপদেষ্টা ও মানবাধিকার সংগঠক এস এম দেলোয়ার হোসেন। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা, বিশিষ্ট নাগরিক নেতা ও পরিবেশবিদ, খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মো. বাবুল হাওলাদার।
সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান বাবু, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার ও অফিসার্স কল্যাণ পরিষদের সভাপতি মো. আব্দুর রহমান, দৈনিক জন্মভূমির নির্বাহী সম্পাদক রোটারিয়ান আলহাজ্ব সরদার মো. আবু তাহের, সাবেক ছাত্রনেতা ও বেতার ব্যক্তিত্ব এস এম চন্দন, নাগরিক আইন পরিষদের ইনস্ট্রাক্টর অ্যাডভোকেট মেহেদী হাসান, আইডিইবি’র কেন্দ্রীয় সদস্য প্রকৌশলী এস কে মাহমুদসহ বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
বক্তারা বলেন, গত বছরের জুলাইয়ের পর থেকে খুলনার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। নগরজুড়ে খুন, ছিনতাই, চুরি, ডাকাতি এখন নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে। মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া, সংঘর্ষ ও হত্যার ঘটনা ঘটলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা আশানুরূপ নয়।
তাঁরা অভিযোগ করেন, পুলিশ, বিজিবি, যৌথ বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা ও সিভিল প্রশাসন— কেউই এ পরিস্থিতির দায় এড়াতে পারে না। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ বলে মন্তব্য করেন বক্তারা। বড় রাজনৈতিক দলগুলো প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে সন্ত্রাস দমনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারলেও বাস্তবে তা দেখা যাচ্ছে না।
বক্তারা আরও বলেন, চলমান এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক ও উৎসবমুখর হওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। আইনশৃঙ্খলার অবনতিতে একদিকে সাধারণ মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে, অন্যদিকে খুলনার ব্যবসা-বাণিজ্য মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে, যার প্রভাব পড়ছে জাতীয় অর্থনীতিতেও।
সমাবেশ থেকে প্রশাসনকে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও দায়বদ্ধতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবেলার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দল ও সচেতন মহলকে সাহসী ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের দাবি জানান বক্তারা।
